কর্মহীন ও বেকারত্ব জীবন একটি অভিশাপ | পিসি হেল্পলাইন বিডি (PC Helpline BD)
বিজ্ঞাপন
Homeঅন্যান্যকর্মহীন ও বেকারত্ব জীবন একটি অভিশাপ

3 মাস আগে (আগস্ট ২২, ২০১৬) 115 বার দেখা হয়েছে

কর্মহীন ও বেকারত্ব জীবন একটি অভিশাপ

Category: অন্যান্য | Tags: , , , , by

বিজ্ঞাপন
Domain Hosting Offer

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের ১৫ (ঘ) অনুচ্ছেদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার তথা প্রত্যেক নাগরিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একটি আদর্শ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু আমাদের দেশে কি তা হচ্ছে বা সরকার কি তা করতে পারছে।

বেকার সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের একমাত্র সমস্যা নয়। সারা পৃথিবীব্যাপী এই সমস্যা চলমান। কিন্তু পার্থক্য হলো এই যে, কেউ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে আবার কেউ অক্ষম। গবেষকদের মতে ভৌগোলিক কারণে এবং জলবায়ুর কারণে মানুষের জন্ম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এর উপর ধর্মকর্ম, আচার-অনুষ্ঠান রীতিনীতি শিক্ষা-অশিক্ষা-কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের প্রভাবও বিদ্যমান। যে দেশে যত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে দেশে তত বেকারত্ব বেড়ে চলেছে বলে অনেকের ধারণা। এই ধারণা সর্বক্ষেত্রে ঠিক নয়, কারণ মানুষ শুধু মুখ আর পেট নিয়েই জন্মগ্রহণ করে না। তার আছে মেধা, হাত, পা ও শক্তি। যে দেশে এই মেধা, হাত পা ও শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে, সেদেশে মানব শক্তির মূল্যায়ন হয়। তথায় বেকারত্বের প্রশ্নই ওঠে না। আর যে দেশে মানব শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম নয় বরং অকাজে সময় ব্যয় করেন, সেখানে শুধু বেকরাত্বই সৃষ্টি হয় না, সমস্যাকে করে তোলে বিষময়। গবেষণা করে দেখা গেছে পৃথিবীর কোন কোন দেশে মানব শক্তি ঘাটতির কারণে অন্যদেশ থেকে মানব শক্তি আমদানি করে থাকে। এর আসল কারণ ভৌগোলিক জলবায়ু, ধর্ম-কর্ম, আচার-অনুষ্ঠান, রীতিনীতি, শিক্ষা-কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের প্রভাব। আমাদের দেশে জন্মের হার অন্যান্য দেশ অপেক্ষা অনেক বেশি। আবার মৃত্যুর হার তার চেয়ে উল্টো। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অপেক্ষা আমাদের দেশে মৃত্যুর হার অনেক কম। বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বাল্য বিবাহের ফলে জন্মের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভৌগোলিক ও জলবায়ুর কারণে দেশের লোক অল্প বয়সে যৌবনাপ্রাপ্ত হওয়ায়, অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করায়, জন্মের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতপ্রধান দেশে সাধারণত: বেশি বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয় আর আমাদের নাতিশীতোষ্ণ দেশে অল্প বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয়। যার ফলে জন্মের হার ক্রমেই বেড়েই চলেছে। পাশ্চাত্য দেশে যে সব খাবার খাওয়া হয় তাতে জন্মানোর ক্ষমতা তাদের অনেক কম। আমাদের দেশে তার উল্টো। তাহলে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জন্মের হার কম এবং বেকার সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা বেশি। তাই তারা আমাদের দেশ থেকে মানব শক্তি আমদানি করে থাকে। অপর পক্ষে আমাদের দেশে বেকার সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা কম। কিন্তু জন্মের হার বেশি। তাই মানব শক্তি অন্যান্য দেশে রপ্তানি করতে হয়। অন্যান্য দেশে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে না। আর আমাদের দেশে মানুষ অলস অবস্থায় বসে থাকে। তারপরও সরকারিভাবে সপ্তাহে ২ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে অন্যান্য দেশে দিন দিন কল-কারখানা বৃদ্ধি করে শ্রমিকের জন্য বিভিন্ন দেশে গিয়ে জনশক্তি আমদানি করে আনছে। আর আমাদের দেশে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ভাষণে বলেছিলেন, আমাদের দেশে বেকারত্ব নাই। যেখানে দেশে বিভিন্ন ধরনের বেকারত্বের সংখ্যা বর্তমানে তিন থেকে চার কোটি এর মধ্যে যুব বেকার সংখ্যা শতকরা ৭০ ভাগ। দেশে যদি পর্যাপ্ত কর্ম সংস্থানই থাকতো তাহলে তরুণরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার পরিজন ফেলে বিদেশে পাড়ি জমাতে যাবে কেন? কেনই বা লাশ হয়ে ঘরে ফিরবে? সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, পুনরায় একই ঘটনা ঘটেছে। যেমনু বেকারত্ব হচ্ছে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত জীবন। বেকার জীবন এমনই যে নিজের স্ত্রী তার স্বামীকে ভালোবাসা দেয় না। সন্তানগণ বেকার বাবা-মা’র কথা শোনে না। চারদিকে হতাশা আর হতাশা। বেকারত্ব মানে অর্ধমৃত মুমূর্ষু জীবন। কর্মহীন জীবনে যে পতিত হয় নাই, সে কোন দিন এর ব্যথা অনুভব করতে পারবে না।

পরিবেশ যখন প্রতিকূল হয়, তখন বেকার জীবন অবসানের জন্য এবং সবার ভালোবাসা প্রাপ্তির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক মুক্তির আশায় জীবনের মায়া-মমতা ত্যাগ করে মানুষ সাগর পাড়ি দিতে দ্বিধাবোধ করে না। অনতিবিলম্বে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও মৃত্যু রোধ করা কি যায় না? সম্প্রতি জন শক্তিবিষয়ক গবেষকরা বলেনু বেকার সমস্যার কারণে বিদেশ যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও যুবকরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য মতে চলতি বছরের প্রথম ০৩ মাসে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি রোহিঙ্গা মানব পাঁচারকারীদের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশীয় পাড়ি জমিয়েছে কিংবা লাশ হয়েছে। অন্যদিকে আরাকান প্রজেক্ট নামে একটি সংস্থার হিসাবে শুধু ২০১৪ সালেই সমুদ্রপথে বাংলাদেশের উপকূল থেকে পাঁচার হয়েছে ৫০ হাজার মানুষ। [দৈনিক কালের কণ্ঠ : ১০/০৫/২০১৫ইং] এক্ষেত্রে আমাদের সমুদ্রে নিয়োজিত কোস্টগার্ডও এ দায় এড়াতে পারে না।

এই সমস্যা সমাধানে প্রথমে আমাদের জনশক্তি শিক্ষিত করে ঘরে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের কর্মমূখী শিক্ষার দিকে আগ্রহী করে ঘরে তুলতে হবে।

বেকার সমস্যা সমাধানে আউটসোর্সিং গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। এসম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এই লিংকে ক্লিক করে আমাদের সাথেই থাকুন।

About 34

author

This user may not interusted to share anything with others

Related Posts

PC Helpline BD Facebook